Interstate Council ( আন্তঃরাজ্য পরিষদ ) আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক (Inter-State Relations)  (ভারতীয় সংবিধানের Part XI – অনুচ্ছেদ 261 - 263 এবং ...

10 আন্তঃরাজ্য পরিষদ (Interstate Council)

/
0 Comments

   Interstate Council (আন্তঃরাজ্য পরিষদ)


আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক (Inter-State Relations) 

(ভারতীয় সংবিধানের Part XI – অনুচ্ছেদ 261 - 263 এবং অন্যান্য সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ অনুসারে। WBCS প্রিলিমসে এই টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে দেখিনি – তবে পড়তে হবে - যেমন আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল কোন অনুচ্ছেদে? জল বণ্টনের ট্রাইব্যুনাল কে গঠন করে?)

ভূমিকা: আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারত একটি ফেডারেল (যুক্তরাষ্ট্র) দেশ, তাই রাজ্যগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সুস্থ থাকা জাতীয় ঐক্যের জন্য অত্যাবশ্যক। সংবিধানে আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে যাতে বিরোধ মিটে যায় এবং সহযোগিতা বাড়ে। এতে কেন্দ্রের ভূমিকা খুব বড় – কেন্দ্র মধ্যস্থতা করে। প্রধান বিষয়গুলো: জল বণ্টন, আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল, জোনাল কাউন্সিল, পাবলিক অ্যাক্টস-রেকর্ডস-জুডিশিয়াল প্রসিডিংস, এবং আন্তঃরাজ্য ব্যবসা-বাণিজ্য।

1. আন্তঃরাজ্য জল বণ্টন (Inter-State Water Disputes)

  • সংবিধানীয় বিধান: অনুচ্ছেদ 262 – আন্তঃরাজ্য নদী জল বণ্টন নিয়ে সংসদ আইন করতে পারে। আদালতের এখতিয়ার সীমিত।

  • Inter-State Water Disputes Act, 1956: এই আইনের অধীনে ত্রিভুজ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

  • প্রক্রিয়া: দুই বা তার বেশি রাজ্যের মধ্যে বিরোধ হলে কেন্দ্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।

  • উদাহরণ:

    • কাবেরী জল বণ্টন ট্রাইব্যুনাল (কর্নাটক-তামিলনাড়ু-কেরালা-পুদুচেরি)।

    • গোদাবরী, কৃষ্ণা, রাভি-বিয়াস ট্রাইব্যুনাল।

  • বর্তমানে: 2025 পর্যন্ত 9টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। Inter-State River Water Disputes (Amendment) Bill, 2019-এ একটি স্থায়ী ট্রাইব্যুনালের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু এখনো পাস হয়নি।
    WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "আন্তঃরাজ্য জল বণ্টনের ট্রাইব্যুনাল কোন অনুচ্ছেদে?" (উত্তর: 262)।

2. আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল (Inter-State Council)

  • সংবিধানীয় বিধান: অনুচ্ছেদ 263 – রাষ্ট্রপতি আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল গঠন করতে পারেন যাতে রাজ্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ে।

  • গঠন: প্রধানমন্ত্রী চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সদস্য।

  • কাজ: আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক, আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা। সুপারিশ করে, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

  • উদাহরণ: 1990 সালে গঠিত (প্রধানমন্ত্রী: ভি.পি. সিংহ)। সর্বশেষ মিটিং 2022 -এ। GST Council-এর মতো এটি সহযোগিতামূলক ফেডারেলিজমের উদাহরণ।
    WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল কোন অনুচ্ছেদে?" (উত্তর: 263)।

3. জোনাল কাউন্সিল (Zonal Councils)

  • সংবিধানীয় বিধান: States Reorganisation Act, 1956-এর অধীনে গঠিত (অনুচ্ছেদ 263 -এর অধীনে নয়, কিন্তু সম্পর্কিত)।

  • গঠন: 5টি জোনাল কাউন্সিল – উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য। প্রতিটিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

  • কাজ: আঞ্চলিক সমস্যা (জল, বিদ্যুৎ, পরিবহন) নিয়ে আলোচনা। সুপারিশ করে।

  • উদাহরণ: উত্তর জোনাল কাউন্সিলে দিল্লি-হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশের জল সমস্যা আলোচিত হয়।
    WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "জোনাল কাউন্সিল কোন আইনের অধীনে?" (উত্তর: States Reorganisation Act, 1956)।

4. পাবলিক অ্যাক্টস, রেকর্ডস ও জুডিশিয়াল প্রসিডিংস (Public Acts, Records and Judicial Proceedings – অনুচ্ছেদ 261)

  • সংবিধানীয় বিধান: অনুচ্ছেদ 261 – কেন্দ্র ও রাজ্যের পাবলিক অ্যাক্টস, রেকর্ডস এবং জুডিশিয়াল প্রসিডিংস পরস্পরের মধ্যে পূর্ণ বিশ্বাস ও ক্রেডিট পাবে।

  • অর্থ: এক রাজ্যের আইন, রেকর্ড (জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট) ও আদালতের রায় অন্য রাজ্যে স্বীকৃতি পাবে।
    উদাহরণ: উত্তরপ্রদেশের জন্ম সার্টিফিকেট মহারাষ্ট্রে বৈধ। এক রাজ্যের আদালতের রায় অন্য রাজ্যে কার্যকর।
    WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "অনুচ্ছেদ 261-এর অর্থ কী?" (উত্তর: পূর্ণ বিশ্বাস ও ক্রেডিট)।

5. আন্তঃরাজ্য ব্যবসা ও বাণিজ্য (Inter-State Trade and Commerce – অনুচ্ছেদ 301 - 307)

  • সংবিধানীয় বিধান: অনুচ্ছেদ 301 – ভারতের অভ্যন্তরে ব্যবসা, বাণিজ্য ও যাতায়াত স্বাধীন।

  • নিষেধ: রাজ্য বা কেন্দ্র এতে অযৌক্তিক বাধা দিতে পারবে না।

  • ব্যতিক্রম: জাতীয় স্বার্থে বা জনকল্যাণে যুক্তিসঙ্গত নিষেধ অনুমোদিত (অনুচ্ছেদ 302 - 304)।

  • উদাহরণ: রাজ্য টোল বা ট্যাক্স দিয়ে বাণিজ্য বাধা দিতে পারে না। GST এই স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করেছে।
    WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "অনুচ্ছেদ 301 -এর অর্থ কী?" (উত্তর: আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য স্বাধীন)।



ভারতে আন্তঃরাজ্য জল বণ্টনের ব্যবস্থা: অনুচ্ছেদ 262 এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের তুলনা

ভারতের আন্তঃরাজ্য জল বণ্টনের বিরোধ মেটানোর জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ 262 -এর অধীনে বর্তমান ব্যবস্থা রয়েছে, যা Inter-State Water Disputes Act, 1956 দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। Inter-State River Water Disputes (Amendment) Bill, 2019-এর প্রস্তাবিত বিলে একটি স্থায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ছিল, যা দ্রুত রেজোলিউশন দেবে এবং তার অ্যাওয়ার্ড ফাইনাল হবে (সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না)। কিন্তু এই বিল পাস হয়নি, এবং বর্তমানে ১৯৫৬ আইনই চলছে। নীচে বর্তমান ব্যবস্থা (অনুচ্ছেদ 262) এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের তুলনা করলাম। 

বর্তমান ব্যবস্থা: অনুচ্ছেদ 262 এবং Inter-State Water Disputes Act, 1956

  • সংবিধানীয় বিধান: অনুচ্ছেদ 262 বলে যে আন্তঃরাজ্য নদী বা নদী উপত্যকার জল বণ্টন নিয়ে সংসদ আইন করতে পারে, এবং এই আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায় ফাইনাল। সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোনো আদালতের এখতিয়ার নেই (কিন্তু রায়ের ব্যাখ্যা বা রিভিউ করতে পারে)।

  • প্রক্রিয়া: দু'টি বা তার বেশি রাজ্যের মধ্যে বিরোধ হলে কেন্দ্র সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান (সুপ্রিম কোর্টের জাজ) এবং দু'জন অ্যাসেসর (ইঞ্জিনিয়ার) থাকেন। রায় কার্যকর করার দায়িত্ব কেন্দ্রের।

  • দ্রুততা এবং আপিল: রায় দেওয়ার সময়সীমা 3 বছর (এক্সটেন্ড করা যায়)। রায় ফাইনাল, সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যায় না (কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট রায়ের ব্যাখ্যা করতে পারে, যেমন কাবেরী কেসে)।

  • উদাহরণ: কাবেরী ট্রাইব্যুনাল (কর্নাটক-তামিলনাড়ু) – 2007 রায়, 2018-এ সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ করে। গোদাবরী, কৃষ্ণা ট্রাইব্যুনাল। মোট 9টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে।

  • সমস্যা: ট্রাইব্যুনাল গঠন দেরি হয়, রায় বাস্তবায়ন কঠিন। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ করা যায় বলে দেরি হয়।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন: Inter-State River Water Disputes (Amendment) Bill, 2019

  • প্রস্তাবিত ব্যবস্থা: এই বিলে একটি স্থায়ী ট্রাইব্যুনাল (Permanent Tribunal) গঠনের কথা ছিল, যা সব বিরোধের জন্য একটাই থাকবে (বর্তমানে প্রতি বিরোধে আলাদা ট্রাইব্যুনাল)। এতে একটি Disputes Resolution Committee (DRC) থাকবে যা প্রথমে মধ্যস্থতা করবে, না মিটলে ট্রাইব্যুনালে যাবে।

  • দ্রুততা এবং আপিল: রায় দেওয়ার সময়সীমা 2 বছর (এক্সটেন্ড 1 বছর)। রায় সম্পূর্ণ ফাইনাল, সুপ্রিম কোর্টে কোনো আপিল বা রিভিউ করা যাবে না – এটি কেন্দ্রের গেজেটে প্রকাশিত হলে আইনের মতো বাধ্যতামূলক।

  • উদাহরণ: বিল পাস হলে কাবেরী-এর মতো বিরোধ দ্রুত মিটবে, কারণ আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দেরি হবে না।

  • বর্তমান অবস্থা): বিল লোকসভায় পাস হয়েছে (2019), কিন্তু রাজ্যসভায় পাস হয়নি। এটি ল্যাপসড হয়েছে, তাই 1956 আইনই চলছে। সরকার 2026 -এ নতুন বিল আনার চেষ্টা করছে।

বর্তমান ব্যবস্থা (অনুচ্ছেদ 262) এবং প্রস্তাবিত ব্যবস্থার তুলনা

বিষয়

বর্তমান ব্যবস্থা (1956 আইন)

প্রস্তাবিত ব্যবস্থা (2019 বিল)

গঠন

প্রতি বিরোধে আলাদা ট্রাইব্যুনাল (চেয়ারম্যান + 2 অ্যাসেসর)।

একটি স্থায়ী ট্রাইব্যুনাল + DRC (Disputes Resolution Committee)।

দ্রুততা

রায় 3 বছর (এক্সটেন্ড করা যায়), দেরি হয়।

রায় 2বছর (এক্সটেন্ড 1 বছর), DRC দিয়ে দ্রুত মধ্যস্থতা।

আপিল/রিভিউ

রায় ফাইনাল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ করা যায় (কাবেরী কেসে হয়েছে)।

রায় সম্পূর্ণ ফাইনাল, সুপ্রিম কোর্টে কোনো আপিল বা রিভিউ নেই।

বাস্তবায়ন

রায় গেজেটে প্রকাশিত হলে আইনের মতো বাধ্যতামূলক।

একই, কিন্তু আরও দ্রুত এনফোর্সমেন্ট।

সমস্যা

ট্রাইব্যুনাল গঠন দেরি, রাজ্য মানে না।

রাজ্যের অধিকার কমে যাবে বলে বিতর্ক।



পূর্ববর্তী চ্যাপ্টার: কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক

পরবর্তী চ্যাপ্টার: জরুরি অবস্থা (Emergency Provisions)



You may also like

কোন মন্তব্য নেই: