ভারতের সংসদ (Parliament of India)  "ভারতের শাসন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হলো ভারতের সংসদ বা পার্লামেন্ট (Parliament o...

13 ভারতের সংসদ (Parliament of India): গঠন, ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ Articles

/
0 Comments

 ভারতের সংসদ (Parliament of India) 

"ভারতের শাসন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হলো ভারতের সংসদ বা পার্লামেন্ট (Parliament of India)। সংবিধানের Part V-এর অনুচ্ছেদ 79 থেকে 122 পর্যন্ত সংসদের গঠন, মেয়াদ, কার্যপদ্ধতি এবং ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যসভা (উচ্চকক্ষ), লোকসভা (নিম্নকক্ষ) এবং ভারতের রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে সংসদ গঠিত হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে WBCS প্রিলিমস এবং মেইনস পরীক্ষায় এই চ্যাপ্টার থেকে প্রতি বছরই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। সহজ বাংলায় Indian Polity প্রস্তুতির আজকের পর্বে আমরা সংসদের গঠন ও কার্যাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।" 


1. সংসদের গঠন (Composition of Parliament – অনুচ্ছেদ 79)

সংসদের তিনটি অংশ:

  1. রাষ্ট্রপতি (President)

  2. রাজ্যসভা (Council of States / Upper House)

  3. লোকসভা (House of the People / Lower House)

রাষ্ট্রপতি সংসদের অংশ হলেও তিনি সদস্য নন। তিনি বিলে সম্মতি দিয়ে আইনে পরিণত করেন।

2. রাজ্যসভা (Rajya Sabha) – উচ্চকক্ষ

  • সদস্য সংখ্যা: সর্বোচ্চ 250 (বর্তমানে 245)

    • 233 জন নির্বাচিত (রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে)

    • 12 জন রাষ্ট্রপতি মনোনীত (সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, সমাজসেবা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ)

  • নির্বাচন পদ্ধতি: পরোক্ষ নির্বাচন

    • রাজ্য বিধানসভার সদস্যরা Single Transferable Vote দিয়ে নির্বাচন করেন।

  • মেয়াদ: 6 বছর। প্রতি 2 বছর অন্তর 1/3 সদস্য অবসর নেন → স্থায়ী সভা (Permanent House), কখনো ভেঙে যায় না।

  • চেয়ারম্যান: উপরাষ্ট্রপতি (Ex-officio Chairman)।

  • বিশেষ ক্ষমতা:

    • রাষ্ট্রপতি শাসনের অনুমোদন (6 মাস পর)

    • স্টেট লিস্টে আইন প্রণয়নের অনুমতি (অনুচ্ছেদ 249)

    • অল ইন্ডিয়া সার্ভিস তৈরি (article 312)

3. লোকসভা (Lok Sabha) – নিম্নকক্ষ

  • সদস্য সংখ্যা: সর্বোচ্চ 552 (বর্তমানে 543)

    • 530 জন রাজ্য থেকে

    • 20 জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে

    • 2 জন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মনোনীত (104 তম সংশোধনীতে বাতিল)

  • নির্বাচন পদ্ধতি: সরাসরি নির্বাচন (Adult Franchise) – প্রত্যেক নাগরিক 18 বছর বয়সে ভোট দিতে পারে। নন্দ স্যারের মেটিরিয়াল পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

  • মেয়াদ: 5 বছর। রাষ্ট্রপতি ভঙ্গ করতে পারেন (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)।

  • চেয়ারম্যান: স্পিকার (Speaker) – লোকসভা সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত।

  • বিশেষ ক্ষমতা:

    • অর্থবিল (Money Bill) শুধু লোকসভায় শুরু হয় (অনুচ্ছেদ 110)

    • অবিশ্বাস প্রস্তাব (No-Confidence Motion) শুধু লোকসভায় আনা যায়. 

    • সরকারের বেঁচে থাকা লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নির্ভর করে

৪. লোকসভা ও রাজ্যসভার মূল পার্থক্য (Quick Comparison)

বিষয়

লোকসভা (Lower House)

রাজ্যসভা (Upper House)

সদস্য সংখ্যা

543 (বর্তমানে)

245 (বর্তমানে)

নির্বাচন

সরাসরি (Direct)

পরোক্ষ (Indirect)

মেয়াদ

5 বছর

6 বছর (1/3 প্রতি 2 বছরে অবসর)

ভঙ্গ হয় কি?

হ্যাঁ

না (Permanent House)

অর্থবিল

শুধু এখানে শুরু হয়

14 দিন আটকে রাখতে পারে

সরকারের দায়বদ্ধতা

লোকসভার প্রতি যৌথ দায়বদ্ধ

না*

স্পিকার/চেয়ারম্যান

স্পিকার (লোকসভা সদস্য)

উপরাষ্ট্রপতি (Ex-officio)

*The government is responsible to parliament in general, loksava in particular. 

5. সংসদের প্রধান ক্ষমতা (Powers of Parliament)

  • আইন প্রণয়ন ক্ষমতা → ইউনিয়ন লিস্ট + কনকারেন্ট লিস্ট + অবশিষ্ট ক্ষমতা

  • আর্থিক ক্ষমতা → বাজেট, ট্যাক্স, ধার নেওয়া

  • নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ → প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা লোকসভার প্রতি দায়বদ্ধ (Parliament in general Loksabha in particular)

  • সংবিধান সংশোধন → অনুচ্ছেদ 368.

  • অন্যান্য → রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি শাসন অনুমোদন, ইমপিচমেন্ট

৬. WBCS-এ আসা বা আসতে পারে এমন প্রশ্ন ও উত্তর (One-liner)

  1. ভারতের সংসদ কোন অনুচ্ছেদে? → 79

  2. রাজ্যসভা কি স্থায়ী সভা? → হ্যাঁ

  3. লোকসভার মেয়াদ কত? → 5 বছর

  4. অর্থবিল কোথায় শুরু হয়? → লোকসভায়

  5. রাজ্যসভার চেয়ারম্যান কে? → উপরাষ্ট্রপতি

  6. লোকসভার স্পিকার কে নির্বাচিত করেন? → লোকসভা সদস্যরা

  7. রাজ্যসভার সদস্য কতজন মনোনীত? → 12 জন

  8. সংসদের সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কত? → লোকসভা 552, রাজ্যসভা 250. 

  9. অবিশ্বাস প্রস্তাব কোথায় আনা যায়? → লোকসভায়

  10. রাজ্যসভা কি ভেঙে যায়? → না


ভারতীয় সংসদের সদস্য, যোগ্যতা, স্পিকার, নির্বাচন, পদমর্যাদা, ক্ষমতা, বিভিন্ন মোশন এবং সংসদীয় কমিটি

1. সংসদের গঠন ও সদস্য সংখ্যা (Composition of Parliament)

ভারতের সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (Bicameral) এবং তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:

  • রাষ্ট্রপতি (President)

  • রাজ্যসভা (Council of States / Upper House)

  • লোকসভা (House of the People / Lower House)

  • লোকসভা: 543 (সর্বোচ্চ 552)

  • রাজ্যসভা: 245 (সর্বোচ্চ 250)

    • 233 জন নির্বাচিত (রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে)

    • 12 জন রাষ্ট্রপতি মনোনীত (সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, সমাজসেবায় বিশেষজ্ঞ)

2. সদস্য হওয়ার যোগ্যতা (Qualifications for Membership – article 84)

বিষয়

লোকসভা সদস্য (MP)

রাজ্যসভা সদস্য (MP)

নাগরিকত্ব

ভারতীয় নাগরিক

ভারতীয় নাগরিক

বয়স

কমপক্ষে 25 বছর

কমপক্ষে 30 বছর

লাভের পদে না থাকা

হ্যাঁ (Office of Profit)

হ্যাঁ

অন্যান্য

লোকসভা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা

রাজ্যসভা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা

অযোগ্যতা (Disqualifications – article 102 ও 191 + 10ম তফসিল)

  • অফিস অফ প্রফিটে থাকা

  • অপ্রাপ্তবয়স্ক

  • অপরাধী (কিছু ক্ষেত্রে)

  • দলত্যাগ (Anti-Defection Law – 10ম তফসিল)

  • অযোগ্য ঘোষিত হওয়া

3. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (Speaker & Deputy Speaker – লোকসভা)

  • স্পিকার

    • লোকসভা সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত (প্রথম অধিবেশনে)

    • দায়িত্ব: অধিবেশন পরিচালনা, ভোটের সময় টাই ব্রেকার (Casting Vote), শৃঙ্খলা রক্ষা

    • পদমর্যাদা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমান (Cabinet Minister Rank)

    • অপসারণ: লোকসভায় 14 দিনের নোটিশ দিয়ে অবিশ্বাস প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতায়

  • ডেপুটি স্পিকার

    • স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন

    • একই নির্বাচন প্রক্রিয়া

  • রাজ্যসভার চেয়ারম্যান

    • উপরাষ্ট্রপতি (Ex-officio Chairman – article 64)

    • ডেপুটি চেয়ারম্যান: রাজ্যসভা সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত. 

4. নির্বাচন পদ্ধতি (Election Process)

বিষয়

লোকসভা

রাজ্যসভা

নির্বাচন

সরাসরি (Direct) – প্রত্যেক নাগরিক ভোট দেয়

পরোক্ষ (Indirect) – রাজ্য বিধানসভা সদস্যরা ভোট দেন

ভোটের ধরন

First Past The Post (FPTP)

Single Transferable Vote (STV)

মেয়াদ

5 বছর

6 বছর (1/3 প্রতি 2 বছরে অবসর)

ভঙ্গ হয় কি?

হ্যাঁ (রাষ্ট্রপতি ভঙ্গ করতে পারেন)

না (Permanent Body)

5. সংসদের ক্ষমতা (Powers of Parliament)

  • আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (Legislative Power)

    • ইউনিয়ন লিস্ট + কনকারেন্ট লিস্ট + অবশিষ্ট ক্ষমতা

    • জরুরি অবস্থায় স্টেট লিস্টেও আইন করতে পারে

  • আর্থিক ক্ষমতা (Financial Power)

    • বাজেট পাস, ট্যাক্স আরোপ, ধার নেওয়া

    • অর্থবিল শুধু লোকসভায় শুরু হয়

  • নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ (Control over Executive)

    • প্রশ্নোত্তর, অ্যাডজার্নমেন্ট মোশন, নো-কনফিডেন্স মোশন

    • লোকসভার প্রতি মন্ত্রিসভা যৌথভাবে দায়বদ্ধ

  • সংবিধান সংশোধন (Constitutional Amendment – অনুচ্ছেদ 368)

  • অন্যান্য

    • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    • রাষ্ট্রপতি শাসনের অনুমোদন

    • ইমপিচমেন্ট (রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্ট জজ, CAG)

6. সংসদে বিভিন্ন মোশন (Various Motions in Parliament)

মোশনের নাম

বর্ণনা

কোথায় আনা যায়?

No-Confidence Motion

সরকারের প্রতি অবিশ্বাস প্রস্তাব। পাস হলে সরকার পড়ে যায়।

শুধু লোকসভায়

Adjournment Motion

জরুরি বিষয়ে অধিবেশন স্থগিত করে আলোচনা।

লোকসভা ও রাজ্যসভায়

Adjournment Sine Die

অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত।

স্পিকার/চেয়ারম্যান করেন

Censure Motion

মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব। সরকার পড়ে না।

লোকসভায়

Call Attention Motion

মন্ত্রীকে জরুরি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করা।

দুই কক্ষেই

Zero Hour

12টা – জরুরি বিষয়ে আলোচনা।

দুই কক্ষেই

Question Hour

প্রশ্নোত্তর কাল (সকাল 11টা থেকে 12টা)

দুই কক্ষেই

7. সংসদীয় কমিটি (Parliamentary Committees)

সংসদের কাজ সহজ করার জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির নাম

ধরন

কাজ

Public Accounts Committee

Standing

CAG রিপোর্ট পরীক্ষা, সরকারি খরচের অডিট

Estimates Committee

Standing

বাজেটের খরচের দক্ষতা পরীক্ষা

Public Undertakings Committee

Standing

PSU-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা

Departmental Standing Committees

Standing

বিভাগভিত্তিক নীতি ও খরচ পরীক্ষা (২৪টি কমিটি)

Joint Parliamentary Committee (JPC)

Ad-hoc

বিশেষ বিষয়ে তদন্ত (যেমন ২G স্ক্যাম JPC)

Business Advisory Committee

Standing

অধিবেশনের কার্যসূচি নির্ধারণ

WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে "Public Accounts Committee-এর চেয়ারম্যান কে?" (উত্তর: সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য)।



ভারতের সংসদীয় কমিটিগুলির সদস্য সংখ্যা ও কার্যকাল 

সংসদীয় কমিটিগুলি দুই প্রকার:

  1. Standing Committees (স্থায়ী কমিটি) – প্রতি বছর গঠিত হয়, কার্যকাল সাধারণত ১ বছর

  2. Ad-hoc / Select / Joint Committees (অস্থায়ী কমিটি) – নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য গঠিত, কাজ শেষ হলে বিলুপ্ত হয়

নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও WBCS-এ বারবার আসা কমিটিগুলির সদস্য সংখ্যা ও কার্যকাল দেওয়া হল 

স্থায়ী কমিটি (Standing Committees)

কমিটির নাম

সদস্য সংখ্যা (মোট)

লোকসভা থেকে

রাজ্যসভা থেকে

কার্যকাল

চেয়ারম্যান নির্বাচন / নিয়োগ

Public Accounts Committee

22

15

7

1 বছর

সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য

Estimates Committee

30

30

০

1 বছর

স্পিকার নিয়োগ করেন

Committee on Public Undertakings

22

15

7

1 বছর

বিরোধী দলের সদস্য হওয়ার প্রথা

Departmentally Related Standing Committees (DRSCs)

প্রতিটি 31

21

10

1 বছর

স্পিকার / চেয়ারম্যান নিয়োগ

Business Advisory Committee

22 (লোকসভা)

22

০

1 বছর

স্পিকার (সাধারণত সরকারি দল)

Committee on Privileges

15 (লোকসভা)

15

০

1 বছর

স্পিকার নিয়োগ করেন

Committee on Government Assurances

15 (লোকসভা)

15

০

1 বছর

স্পিকার নিয়োগ করেন

Rules Committee

15 (লোকসভা)

15

০

1 বছর

স্পিকার নিজেই চেয়ারম্যান

রাজ্যসভার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি

  • Committee on Rules – চেয়ারম্যান: উপরাষ্ট্রপতি

  • Committee on Privileges – 15 সদস্য

  • Committee on Subordinate Legislation – 15 সদস্য

অস্থায়ী / বিশেষ কমিটি (Ad-hoc / Select / Joint Committees)

  • Joint Parliamentary Committee (JPC)

    • সদস্য সংখ্যা: সাধারণত 30-45 (লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে মিলিয়ে)

    • কার্যকাল: কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত (কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই)

    • উদাহরণ: 2G স্ক্যাম JPC, Bofors JPC, Nirav Modi PNB Scam JPC

  • Select Committee

    • সদস্য সংখ্যা: সাধারণত 15-30 (এক কক্ষের)

    • কার্যকাল: বিল পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত

  • Joint Select Committee

    • দুই কক্ষের মিলিত কমিটি

    • উদাহরণ: GST Bill-এর জন্য গঠিত Joint Select Committee

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও WBCS টিপস

  • Public Accounts Committee-এর চেয়ারম্যান সাধারণত বিরোধী দলের সদস্য হন (প্রথা)

  • Estimates Committee-এর চেয়ারম্যান সরকারি দলের হয়

  • সদস্য সংখ্যা সবসময় লোকসভা থেকে বেশি থাকে (সাধারণত 2:1 অনুপাত)

  • কার্যকাল সাধারণত 1 বছর (Standing Committees), কিন্তু Ad-hoc কমিটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই

  • প্রশ্ন আসার সম্ভাব্য জায়গা:

    • Public Accounts Committee-এর চেয়ারম্যান কে?

    • DRSCs কয়টি? (উত্তর: 24টি)

    • Joint Parliamentary Committee কী?

ভারতীয় সংসদে সাধারণ বিল পেশ ও পাসের পদ্ধতি

(Ordinary Bill / Non-Money Bill – WBCS প্রিলিমস ও মেইনসের জন্য স্টেপ-বাই-স্টেপ বিস্তারিত ব্যাখ্যা)

সাধারণ বিল (Ordinary Bill) হলো সেই বিল যা অর্থবিল (Money Bill) নয়। এগুলোতে ট্যাক্স, ব্যয়, ধার ইত্যাদি সরাসরি না থাকলে সাধারণ বিল বলা হয়। এই বিল দুই কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) সমান গুরুত্ব পায়। নিচে পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো।

ধাপ 1: বিল পেশ করা (Introduction / First Reading)

  • যেকোনো সদস্য (সরকারি বা বিরোধী) বা মন্ত্রী বিল পেশ করতে পারেন।

  • বিল পেশ করার জন্য:

    • লোকসভায় → স্পিকারের অনুমতি

    • রাজ্যসভায় → চেয়ারম্যানের অনুমতি

  • পেশের সময় বিলের উদ্দেশ্য সংক্ষেপে বলা হয়।

  • এই ধাপে কোনো আলোচনা বা ভোট হয় না – শুধু বিল পেশ করা হয়।

  • বিলটি দুই কক্ষের যেকোনো একটিতে প্রথমে পেশ করা যায়।

ধাপ 2: দ্বিতীয় পাঠ (Second Reading)

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে তিনটি সাব-ধাপ থাকে:

ক) সাধারণ আলোচনা (General Discussion)

  • বিলের মূল নীতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়।

  • সদস্যরা সমর্থন বা বিরোধিতা করেন।

  • এখানে বিল প্রত্যাহার (Withdraw) করা যায়।

খ) বিস্তারিত আলোচনা ও সংশোধন (Clause-by-Clause Discussion)

  • বিলের প্রতিটি ধারা (Clause) আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হয়।

  • সদস্যরা সংশোধনী (Amendments) প্রস্তাব করতে পারেন।

  • সংশোধনী গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

গ) তৃতীয় পাঠ (Third Reading)

  • বিলের চূড়ান্ত আকারে আলোচনা।

  • শুধু সমর্থন বা বিরোধিতা করা যায় – নতুন সংশোধনী দেওয়া যায় না।

  • ভোট হয় → সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (Simple Majority) পাস হয়।

ধাপ 3: অন্য কক্ষে পাঠানো (Transmission to the Other House)

  • যে কক্ষে প্রথমে পাস হয়, সেখান থেকে অন্য কক্ষে পাঠানো হয়।

  • অন্য কক্ষও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পাঠ)।

  • যদি অন্য কক্ষ সংশোধনী করে তাহলে বিলটি আবার প্রথম কক্ষে ফিরে আসে।

ধাপ 4: যৌথ সংসদীয় কমিটি বা পুনর্বিবেচনা (Joint Sitting or Reconsideration)

  • যদি দুই কক্ষে ভিন্ন সংশোধনী হয় তাহলে:

    • বিলটি আবার প্রথম কক্ষে পাঠানো হয়।

    • যদি এখনো মিল না হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি যৌথ অধিবেশন (Joint Sitting –article 108) ডাকতে পারেন।

  • যৌথ অধিবেশনে লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্য একসাথে ভোট দেন।

  • সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হলে বিল চূড়ান্ত হয়। (লোকসভার সদস্য বেশি থাকায় লোকসভার প্রাধান্য থাকে)।

ধাপ 5: রাষ্ট্রপতির সম্মতি (Assent of the President – article 111)

  • বিল দুই কক্ষে পাস হলে রাষ্ট্রপতির কাছে যায়।

  • রাষ্ট্রপতির তিনটি অপশন:

    1. সম্মতি দেওয়া → বিল আইনে পরিণত হয়।

    2. সম্মতি না দেওয়া (Absolute Veto) – খুব কম ব্যবহার হয়।

    3. পকেট ভেটো (Pocket Veto) – বিল ফিরিয়ে না দিয়ে আটকে রাখা।

  • সাধারণ বিলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সাসপেনসিভ ভেটো (Suspensive Veto) দিতে পারেন – বিল ফিরিয়ে দিলে সংসদ আবার পাস করলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য।

সারাংশ টেবিল (স্টেপ বাই স্টেপ)

ধাপ

কী হয়?

কোথায় হয়?

ভোটের ধরন

১

বিল পেশ (প্রথম পাঠ)

যেকোনো কক্ষে

কোনো ভোট নেই

২

দ্বিতীয় পাঠ (আলোচনা + সংশোধনী)

যে কক্ষে পেশ হয়েছে

সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

৩

অন্য কক্ষে পাঠানো

অন্য কক্ষ

সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

৪

যৌথ অধিবেশন (যদি দরকার হয়)

যৌথ অধিবেশন

সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

৫

রাষ্ট্রপতির সম্মতি

রাষ্ট্রপতি

সম্মতি / ভেটো

WBCS-এর জন্য One-liner টিপস

  • সাধারণ বিল কোথায় শুরু হয়? → যেকোনো কক্ষে

  • অর্থবিলের সাথে পার্থক্য কী? → অর্থবিল শুধু লোকসভায় শুরু হয়, রাজ্যসভা আটকে রাখতে পারে না

  • যৌথ অধিবেশন কোন অনুচ্ছেদে? →108 

  • সাধারণ বিলে রাষ্ট্রপতির ভেটো কী ধরনের? → Suspensive Veto (সাসপেনসিভ ভেটো)


ভারতীয় সংসদে বাজেট পেশ ও পাসের প্রক্রিয়া (স্টেপ বাই স্টেপ)

(ডিপার্টমেন্টাল স্ট্যান্ডিং কমিটিসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা – WBCS প্রিলিমস ও মেইনসের জন্য)

ভারতে বাজেট প্রক্রিয়া সংবিধানের article 112 - 117 এবং সংসদীয় প্রথা অনুসারে চলে। এটি একটি দীর্ঘ ও বহু-ধাপের প্রক্রিয়া যা সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এবং জুলাই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়। নিচে স্টেপ বাই স্টেপ বর্ণনা করা হলো।

স্টেপ 1: বাজেট প্রস্তুতি (Preparation – নভেম্বর থেকে জানুয়ারি)

  • অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance) সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে ব্যয়ের অনুমান (Demands for Grants) চায়।

  • রাজস্ব বিভাগ (Revenue Department) ট্যাক্স ও অন্যান্য আয়ের প্রাক্কলন করে।

  • NITI Aayog, RBI, Planning Commission-এর পরামর্শ নেওয়া হয়।

  • অর্থমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন (প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে)।

স্টেপ 2: বাজেট পেশ (Presentation of Budget)

  • তারিখ: সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে (1 ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি)।

  • কোথায় পেশ করা হয়?: লোকসভায় (রাজ্যসভায় একই দিনে পেশ করা হয় না)।

  • কী পেশ করা হয়?

    • Annual Financial Statement (article 112)

    • Finance Bill (ট্যাক্স প্রস্তাব)

    • Demands for Grants (বিভাগভিত্তিক ব্যয়ের অনুমান)

    • Economic Survey (আগের দিন পেশ করা হয়)

স্টেপ 3: বাজেটের প্রথম আলোচনা (General Discussion)

  • লোকসভায় 3-5 দিন সাধারণ আলোচনা হয় (General Budget Discussion)।

  • সদস্যরা বাজেটের সামগ্রিক নীতি, অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

  • কোনো ভোট হয় না – শুধু আলোচনা।

স্টেপ 4: ডিপার্টমেন্টাল স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পরীক্ষা (Departmentally Related Standing Committees – DRSCs)

  • বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটি।

  • কয়টি কমিটি? → 24টি (16টি লোকসভা-প্রধান, 8 (আট)টি রাজ্যসভা-প্রধান)

  • সদস্য সংখ্যা: প্রতিটি কমিটিতে 31 জন (লোকসভা থেকে 21, রাজ্যসভা থেকে 10)

  • কার্যকাল: 1 বছর (প্রতি বছর নতুন করে গঠিত হয়)

  • কাজ: প্রতিটি কমিটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় / বিভাগের Demands for Grants পরীক্ষা করে।

    • মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা

    • বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া

    • রিপোর্ট তৈরি করে সংসদে জমা দেয়

  • গুরুত্ব: কমিটির রিপোর্ট বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে হয়।

স্টেপ 5: Demands for Grants-এর ভোটিং (Voting on Demands for Grants)

  • লোকসভায় বিভাগভিত্তিক আলোচনা ও ভোট হয়।

  • প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা আলোচনা।

  • ভোট হয় → সরকার পরাজিত হলে সরকার পড়ে (Dissolve) যেতে পারে।

  • রাজ্যসভায় শুধু আলোচনা হয়, ভোট হয় না।

স্টেপ 6: Appropriation Bill পাস (Appropriation Bill)

  • অনুচ্ছেদ 114 – সরকার যে খরচ করবে তার অনুমোদন।

  • লোকসভায় পাস হয় → রাজ্যসভায় আলোচনা হয় (ভোট হয় না)।

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে আইন হয়।

স্টেপ 7: Finance Bill পাস (Finance Bill)

  • ট্যাক্স প্রস্তাব (করের হার, নতুন কর) এই বিলে থাকে।

  • Money Bill হিসেবে শুধু লোকসভায় পাস হয়।

  • রাজ্যসভা 14 দিন আটকে রাখতে পারে, কিন্তু পরিবর্তন করতে পারে না।

  • রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে আইন হয়।

স্টেপ 8(আট) : বাজেট পাস হওয়ার পর

  • বাজেট পাস হলে সরকার খরচ ও আয় করতে পারে।

  • বছরের মাঝে প্রয়োজনে Supplementary Budget বা Vote on Account নেওয়া যায়।

সারাংশ টেবিল (স্টেপ বাই স্টেপ সারণি)

ধাপ

কী হয়?

কোথায় হয়?

সময়কাল (সাধারণত)

1

বাজেট প্রস্তুতি

অর্থ মন্ত্রণালয়

নভেম্বর–জানুয়ারি

2

বাজেট পেশ

লোকসভায়

ফেব্রুয়ারি শেষ

3

সাধারণ আলোচনা (General Discussion)

লোকসভায়

3-5 দিন

4

ডিপার্টমেন্টাল স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পরীক্ষা

24টি কমিটি

মার্চ–এপ্রিল

5

Demands for Grants-এর ভোট

লোকসভায়

এপ্রিল–মে

6

Appropriation Bill পাস

লোকসভা → রাজ্যসভা → রাষ্ট্রপতি

মে–জুন

7

Finance Bill পাস

লোকসভা → রাজ্যসভা → রাষ্ট্রপতি

মে–জুলাই

WBCS-এর জন্য One-liner টিপস

  • বাজেট কোন অনুচ্ছেদে? → 112

  • অর্থবিল কোথায় শুরু হয়? → লোকসভায়

  • ডেপার্টমেন্টাল স্ট্যান্ডিং কমিটি কয়টি? → 24টি

  • বাজেটে ভোট হয় কোথায়? → লোকসভায়

  • রাজ্যসভা বাজেটে কী করে? → শুধু আলোচনা

সংসদে Cut Motion ও Charged Expenditure 

 Cut Motion (কাট মোশন)

Cut Motion হলো লোকসভায় Demands for Grants (বিভাগভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ) নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দল বা সদস্যরা যে প্রস্তাব আনে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট খাতের বরাদ্দ কমানোর দাবি করা হয়।

প্রধান ধরন (3 প্রকার)

ধরন

কী বলা হয়?

কত টাকা কাটার প্রস্তাব?

ফলাফল যদি পাস হয়

Policy Cut

"এই খাতের বরাদ্দ 1 টাকা কমানো হোক"

1 টাকা

মন্ত্রীর নীতি নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু সরকার পড়ে না

Economy Cut

"এই খাতের বরাদ্দ 100 টাকা (বা নির্দিষ্ট অঙ্ক) কমানো হোক"

নির্দিষ্ট অঙ্ক

খরচ কমানোর দাবি, সরকার পড়ে না

Token Cut

"এই খাতের বরাদ্দ 100 টাকা কমানো হোক"

100 টাকা

মন্ত্রীর নীতি বা প্রশাসন নিয়ে আলোচনা, সরকার পড়ে না

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • Cut Motion শুধু লোকসভায় আনা যায় (রাজ্যসভায় নয়)।

  • পাস হলে সরকার পড়ে না, কিন্তু মন্ত্রীর নীতি বা প্রশাসনের উপর তীব্র সমালোচনা হয়।

  • সরকার সাধারণত Cut Motion-এর বিরুদ্ধে ভোট দেয় এবং সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে।

Charged Expenditure (চার্জড এক্সপেন্ডিচার)

Charged Expenditure হলো সেই খরচ, যেগুলো ভোটিং-এর আওতায় আসে না। অর্থাৎ লোকসভায় এগুলোর উপর ভোট হয় না, শুধু আলোচনা হয়। এগুলো সরাসরি Consolidated Fund of India থেকে দেওয়া হয়।

Charged Expenditure-এর প্রধান খাতগুলি (article 112 (3))

  • রাষ্ট্রপতির বেতন ও ভাতা

  • সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের বেতন ও পেনশন

  • CAG-এর বেতন ও পেনশন

  • সুপ্রীম কোর্ট ও হাই কোর্টের খরচ

  • কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধ

  • রাজ্যপালদের বেতন ও ভাতা (কিছু ক্ষেত্রে)

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • Charged Expenditure-এর উপর ভোট হয় না → সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকুক বা না থাকুক, এগুলো কাটা যায় না।

  • শুধু আলোচনা হয়, কিন্তু বরাদ্দ বাধ্যতামূলক।

  • এটি বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক পদের স্বাধীনতা রক্ষা করে।

WBCS-এর জন্য One-liner

  1. Cut Motion কোথায় আনা যায়? → শুধু লোকসভায়

  2. Cut Motion পাস হলে কী হয়? → সরকার পড়ে না, শুধু আলোচনা হয়

  3. Charged Expenditure-এর উপর ভোট হয়? → না, শুধু আলোচনা হয়

  4. কোন অনুচ্ছেদে Charged Expenditure উল্লেখ আছে? → article 112 (3)

  5. রাষ্ট্রপতির বেতন কোন ধরনের খরচ? → Charged Expenditure


গিলটিন মোশন (Guillotine Motion) হলো ভারতীয় সংসদে (বিশেষ করে লোকসভায়) বাজেট প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি খুবই সাধারণ ও প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।:

গিলটিন মোশন কী?

  • যখন লোকসভায় Demands for Grants (বিভাগভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ) নিয়ে আলোচনার জন্য সময় খুব কম থাকে বা সময় শেষ হয়ে আসে, তখন স্পিকার গিলটিন মোশন ঘোষণা করেন।

  • এর অর্থ: বাকি যতগুলো দাবি (Demands) নিয়ে আর আলোচনা হবে না — সরাসরি ভোটিং করা হবে।

  • আলোচনা "কেটে" (cut) ফেলা হয়, যেমন গিলটিন দিয়ে মাথা কাটা হয় — তাই নাম গিলটিন মোশন।

কীভাবে কাজ করে? (স্টেপ বাই স্টেপ)

  1. লোকসভায় বাজেটের Demands for Grants নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

  2. প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা আলাদা সময় বরাদ্দ থাকে।

  3. যদি সময় শেষ হয়ে যায় বা স্পিকার মনে করেন যে আর আলোচনা সম্ভব নয় — → স্পিকার ঘোষণা করেন: "The question is that the demands for grants in respect of … be passed."

  4. বাকি সব দাবির উপর আর কোনো আলোচনা হয় না — সরাসরি ভোট হয়।

  5. সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সব দাবি পাস হয়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন)

  • গিলটিন মোশন শুধু লোকসভায় হয় (রাজ্যসভায় নয়)।

  • এটি বিরোধী দলের জন্য খুবই অসুবিধাজনক, কারণ তাদের আলোচনার সুযোগ কমে যায়।

  • বাজেট পাসের শেষ ধাপে প্রায় প্রতি বছরই গিলটিন মোশন ব্যবহার করা হয়।

  • এর ফলে অনেক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয় না — সরাসরি পাস হয়ে যায়।

WBCS-এর জন্য One-liner

  1. গিলটিন মোশন কোথায় হয়? → লোকসভায়

  2. গিলটিন মোশনের অর্থ কী? → বাকি Demands for Grants-এর উপর আলোচনা বন্ধ করে সরাসরি ভোট

  3. গিলটিন মোশন কে ঘোষণা করেন? → স্পিকার

  4. এটি পাস হলে কী হয়? → বাকি দাবিগুলো আলোচনা ছাড়াই পাস হয়

সংক্ষেপে: গিলটিন মোশন হলো বাজেট আলোচনাকে "কেটে" ফেলে দ্রুত পাস করার একটা প্রক্রিয়া। পরীক্ষায় এটি খুব সহজেই আসতে পারে।


Consolidated Fund of India ও Contingency Fund of India 

ভারতের সংবিধানে সরকারের টাকা-পয়সা রাখা ও ব্যয় করার জন্য তিনটি প্রধান ফান্ড আছে। এর মধ্যে দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Consolidated Fund of India এবং Contingency Fund of India। সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করছি:

 Consolidated Fund of India (সংযুক্ত তহবিল)

  • অনুচ্ছেদ: 266 (1)

  • কী? এটি ভারত সরকারের প্রধান ও সবচেয়ে বড় তহবিল। দেশের সব টাকা-পয়সা এখানেই জমা হয় এবং সরকারের সব খরচ এখান থেকেই হয়।

  • কোথা থেকে টাকা আসে?

    • সব কর (ট্যাক্স) – আয়কর, GST, কর্পোরেট ট্যাক্স ইত্যাদি

    • সরকারি লোন (ঋণ)

    • অন্যান্য আয় (লভ্যাংশ, ফি, জরিমানা ইত্যাদি)

  • কোথায় খরচ হয়?

    • সরকারের সব খরচ (Charged + Voted) – বেতন, সুদ, সাবসিডি, রাস্তা-সেতু, প্রকল্প ইত্যাদি।

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    • এই ফান্ড থেকে এক পয়সাও ব্যয় করতে হলে সংসদের অনুমোদন (Appropriation Act বা Finance Act) লাগে।

    • এটি ছাড়া সরকার কোনো খরচ করতে পারে না।

    • Charged Expenditure (রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, সুদ ইত্যাদি) এখান থেকে আসে, কিন্তু ভোটিং হয় না।

সহজ উদাহরণ: এটি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মতো – সব টাকা এখানে জমা হয়, সব খরচ এখান থেকেই হয়।

Contingency Fund of India (আকস্মিক তহবিল)

  • অনুচ্ছেদ: 267 (1) 

  • কী? এটি একটি জরুরি তহবিল। সরকারের হাতে সবসময় কিছু টাকা রাখা থাকে, যাতে অপ্রত্যাশিত খরচের সময় সংসদের অনুমোদন ছাড়াই খরচ করা যায়।

  • পরিমাণ: বর্তমানে ₹500 কোটি (সংসদ আইন দিয়ে বাড়াতে পারে)।

  • কোথায় খরচ হয়?

    • অপ্রত্যাশিত ও জরুরি খরচ (যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, মহামারী)।

    • পরে সংসদের কাছে Supplementary Grant চেয়ে এই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    • এটি Consolidated Fund-এর মতো নয় – সরকার সরাসরি খরচ করতে পারে।

    • পরে সংসদের অনুমোদন নিতে হয়।

সহজ উদাহরণ: এটি আপনার পকেটে থাকা জরুরি 500 - 1000 টাকার মতো – হঠাৎ কিছু লাগলে ব্যবহার করা যায়, পরে ব্যাঙ্ক থেকে ফেরত দিয়ে দিবেন।

সারাংশ – দুটি ফান্ডের তুলনা

বিষয়

Consolidated Fund of India

Contingency Fund of India

অনুচ্ছেদ

266 (1)

267(1)

উদ্দেশ্য

সরকারের সব আয়-খরচের প্রধান তহবিল

জরুরি ও অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য ছোট তহবিল

পরিমাণ

অনেক বড় (লক্ষ লক্ষ কোটি)

ছোট (বর্তমানে 500 কোটি)

খরচের অনুমোদন

সংসদের ভোট/আইন লাগে

সরকার সরাসরি খরচ করতে পারে (পরে অনুমোদন)

উদাহরণ

বেতন, সুদ, রাস্তা-সেতু, সাবসিডি

বন্যা, ভূমিকম্প, মহামারীতে তাৎক্ষণিক খরচ

WBCS-এর জন্য One-liner

  1. Consolidated Fund কোন অনুচ্ছেদে? → 266 (1)

  2. Contingency Fund কোন অনুচ্ছেদে? →  267(1)

  3. Consolidated Fund থেকে খরচ করতে কী লাগে? → সংসদের অনুমোদন

  4. Contingency Fund-এর পরিমাণ কত? → 500 কোটি

  5. Charged Expenditure কোন ফান্ড থেকে? → Consolidated Fund

ভারতীয় সংসদে অধিবেশন সংক্রান্ত টপিকগুলির আলোচনা

ভারতীয় সংসদের অধিবেশন (Sessions of Parliament) সংবিধানের article 85 -এ বর্ণিত। সংসদ বছরে সাধারণত 3টি অধিবেশন করে: বাজেট সেশন (ফেব্রুয়ারি–মে), মনসুন সেশন (জুলাই–সেপ্টেম্বর), শীতকালীন সেশন (নভেম্বর–ডিসেম্বর)। নিচে টপিকগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করলাম, সংবিধানীয় বিধান সহ।

 Summon (অধিবেশন ডাকা)

  • সংজ্ঞা: Summon হলো রাষ্ট্রপতির দ্বারা সংসদ অধিবেশন ডাকা বা শুরু করা। এটি সংসদের প্রথম ধাপ।

  • কীভাবে হয়? রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ অধিবেশন ডাকেন (article 85)।

  • সময়সীমা: দুটি অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ 6 মাসের ব্যবধান রাখা যায়।

  • প্রভাব: অধিবেশন না ডাকলে সংসদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

  • উদাহরণ: বাজেট সেশন রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে শুরু হয়।

  • WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে – "সংসদ অধিবেশন কে ডাকেন?" (উত্তর: রাষ্ট্রপতি)।

Adjournment (অধিবেশন স্থগিত করা)

  • সংজ্ঞা: Adjournment হলো অধিবেশন চলাকালীন সাময়িক স্থগিতকরণ (যেমন কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য)।

  • কীভাবে হয়? স্পিকার (লোকসভা) বা চেয়ারম্যান (রাজ্যসভা) ঘোষণা করেন। সংসদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত।

  • প্রকার:

    • Adjournment Sine Die: অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত (যেমন অধিবেশন শেষ হলে)।

    • Adjournment Motion: জরুরি বিষয়ে স্থগিত করে আলোচনা করা।

  • প্রভাব: অধিবেশন শেষ হয় না, শুধু বিরতি হয়। বিল বা কাজ স্থগিত থাকে।

  • উদাহরণ: বিক্ষোভ হলে স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করেন।

  • WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে – "Adjournment Sine Die কী?" (উত্তর: অনির্দিষ্টকালের স্থগিত)।

Prorogation (অধিবেশনের সমাপ্তি)

  • সংজ্ঞা: Prorogation হলো চলমান অধিবেশনের সম্পূর্ণ সমাপ্তি।

  • কীভাবে হয়? রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ঘোষণা করেন।

  • প্রভাব: অধিবেশন শেষ হয়, কিন্তু সংসদ ভেঙে যায় না। বিল ল্যাপস হয় না।

  • উদাহরণ: বাজেট সেশন শেষ হলে রাষ্ট্রপতি Prorogation ঘোষণা করেন।

  • WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে – "Prorogation কে করে?" (উত্তর: রাষ্ট্রপতি)।

Dissolution of House and Pending Bills (সংসদ ভঙ্গ ও পেন্ডিং বিল)

  • সংজ্ঞা: Dissolution হলো লোকসভা বা বিধানসভার সম্পূর্ণ ভঙ্গ।

  • কীভাবে হয়? রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে লোকসভা ভঙ্গ করেন (article 85)। রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে বিধানসভা ভঙ্গ করেন (article 174)।

  • প্রভাব: সংসদ ভেঙে গেলে সদস্যপদ শেষ হয়, নতুন নির্বাচন হয়।

  • Pending Bills-এর কী হয়?

    • যে বিল দুই কক্ষে পাস না হয়ে থাকে, সেগুলো ল্যাপস (Lapse) হয়ে যায়।

    • যে বিল রাজ্যসভায় পাস হয়েছে কিন্তু লোকসভায় না, সেগুলোও ল্যাপস হয় (কারণ লোকসভা ভেঙে যায়)।

    • রাজ্যসভার অর্ডিন্যান্স বা বিল ল্যাপস হয় না, কারণ রাজ্যসভা স্থায়ী।

  • উদাহরণ: 2019-এ লোকসভা ভঙ্গ হলে কিছু বিল ল্যাপস হয়ে গিয়েছিল।

  • WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে – "লোকসভা ভঙ্গ হলে Pending Bills-এর কী হয়?" (উত্তর: ল্যাপস হয়)।

Quorum (কোয়ারাম বা ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা)

  • সংজ্ঞা: Quorum হলো সংসদ বা বিধানসভার অধিবেশন চালানোর জন্য ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা।

  • কত? সংসদের মোট সদস্যের 1/10 (article 100(3) অনুচ্ছেদ)।

    • লোকসভা: 545 সদস্যের 1/10 = 55 জন

    • রাজ্যসভা: 245 সদস্যের 1/10  = 25 জন

  • প্রভাব: কোয়ারাম না থাকলে অধিবেশন চলতে পারে না। স্পিকার/চেয়ারম্যান ঘোষণা করে অধিবেশন স্থগিত করেন।

  • উদাহরণ: বিরোধীদের ওয়াকআউটে কোয়ারাম না থাকলে অধিবেশন স্থগিত হয়।

  • WBCS টিপ: প্রশ্ন আসে – "সংসদে কোয়ারাম কত?" (উত্তর: মোট সদস্যের 1/10)।


ভারতীয় সংসদে / বিধানসভায় অর্ডিন্যান্সের প্রক্রিয়া 

অর্ডিন্যান্স হলো রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের জারি করা একটি অস্থায়ী আইন, যা সংসদ/বিধানসভা অধিবেশনে না থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ 123 (কেন্দ্রীয়) ও অনুচ্ছেদ 213 (রাজ্য) দিয়ে নিয়ন্ত্রিত।

অর্ডিন্যান্স জারির প্রক্রিয়া (Step by Step)

  1. প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ

    • সংসদ/বিধানসভা অধিবেশনে নেই (প্রোরোগড বা ডিসলভড)।

    • রাষ্ট্রপতি/রাজ্যপালের মতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা (immediate action) নেওয়া দরকার।

  2. পরামর্শ গ্রহণ

    • রাষ্ট্রপতি → প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শে।

    • রাজ্যপাল → মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য মন্ত্রিসভার পরামর্শে।

  3. অর্ডিন্যান্স জারি

    • রাষ্ট্রপতি/রাজ্যপাল স্বাক্ষর করেন।

    • অর্ডিন্যান্স জারির দিন থেকে কার্যকর হয়।

  4. সংসদ/বিধানসভায় পেশ

    • অর্ডিন্যান্স জারির পর 6 সপ্তাহের মধ্যে সংসদ/বিধানসভা অধিবেশনে পেশ করতে হয়।

    • দুই কক্ষে (লোকসভা + রাজ্যসভা বা বিধানসভা + বিধান পরিষদ) পাস করতে হয়।

  5. পাস না হলে কী হয়?

    • অধিবেশন শুরু হওয়ার 6 সপ্তাহ পর অর্ডিন্যান্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়।

    • যদি পাস হয়, তাহলে সাধারণ আইনে পরিণত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন)

  • অর্ডিন্যান্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ 6 মাস + 6 সপ্তাহ (অধিবেশন শুরু হওয়ার 6 সপ্তাহ পর্যন্ত)।

  • একই বিষয়ে একাধিকবার অর্ডিন্যান্স জারি করা যায় না (যদি না পূর্বেরটি ল্যাপস করে)।

  • সুপ্রীম কোর্ট অর্ডিন্যান্সের বৈধতা যাচাই করতে পারে (যদি অপব্যবহার হয়)।

  • উদাহরণ: 2016-এর Demonetisation-এর পর অর্ডিন্যান্স দিয়ে কালো টাকা আইন সংশোধন করা হয়েছিল।

WBCS-এর জন্য One-liner

  1. অর্ডিন্যান্স কে জারি করেন? → রাষ্ট্রপতি (কেন্দ্র) / রাজ্যপাল (রাজ্য)

  2. কোন অনুচ্ছেদে? → 123 (কেন্দ্র), 213 (রাজ্য)

  3. অর্ডিন্যান্সের মেয়াদ কত? → 6 মাস + 6 সপ্তাহ (অধিবেশন শুরুর পর)

  4. অর্ডিন্যান্স পাস করতে হয় কোথায়? → সংসদ/বিধানসভায়

  5. অর্ডিন্যান্স জারির শর্ত কী? → সংসদ/বিধানসভা অধিবেশনে না থাকা + তাৎক্ষণিক প্রয়োজন


পূর্ববর্তী চ্যাপ্টার: ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি





You may also like

কোন মন্তব্য নেই: