ভারতের রাষ্ট্রপতি (President of India) ভারতের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার (Indian Polity) কাঠামোয়, কেন্দ্রীয় শাসনবিভাগের (Union Executive) অন্...

12 President and Vice President of India: Constitutional Provisions, Powers, and GK Notes

/
0 Comments

 ভারতের রাষ্ট্রপতি (President of India)

ভারতের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার (Indian Polity) কাঠামোয়, কেন্দ্রীয় শাসনবিভাগের (Union Executive) অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা—বিশেষ করে UPSC সিভিল সার্ভিসেস, SSC CGL, NDA, CDS এবং বিভিন্ন রাজ্যের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা (যেমন WBCS, UPPSC ও BPSC)—এর প্রিলিমিনারি ও মেইন উভয় পর্যায়েই ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রতি বছরই আসে। সহজ ভাষায় উপস্থাপিত এই বিশেষ নির্দেশিকাটিতে আমরা একটি বিস্তারিত ‘স্টাডি নোট’ বা পাঠ্য-সংকলন প্রস্তুত করেছি; এতে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা, নির্বাচন প্রক্রিয়া, অভিশংসন (impeachment) ও ভেটো প্রদানের ক্ষমতা এবং উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

1. ভূমিকা: রাষ্ট্রপতি কে?

রাষ্ট্রপতি ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপ্রধান (Head of State)। তিনি দেশের প্রতীক, সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার এবং সংবিধানের রক্ষক। কিন্তু তিনি নামমাত্র প্রধান (Nominal / Titular Head) – বাস্তব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে (অনুচ্ছেদ 74)। রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে কাজ করেন (যদিও কিছু বিবেচনামূলক ক্ষমতা আছে)। ভারতের শাসনব্যবস্থা পার্লামেন্টারি, তাই রাষ্ট্রপতি রাজতন্ত্রের রাজার মতো নামমাত্র।

2. রাষ্ট্রপতির নির্বাচন (Election of President – অনুচ্ছেদ 54 - 55)

  • যোগ্যতা:

    • ভারতীয় নাগরিক।

    • 35 বছর বয়স।

    • লোকসভা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা।

    • লাভের পদে না থাকা (অফিস অফ প্রফিট)।

  • নির্বাচন প্রক্রিয়া: পরোক্ষ নির্বাচন (Indirect Election)।

    • ইলেকটোরাল কলেজ: লোকসভা + রাজ্যসভা + রাজ্য বিধানসভা নির্বাচিত সদস্যরা ভোট দেন। মনোনীত সদস্যরা ভোট দিতে পারেন না। 

    • ভোটের মূল্য: একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট (Single Transferable Vote)।

    • প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন দিয়ে ভোটের মান নির্ধারণ (যাতে রাজ্যের জনসংখ্যা অনুসারে ভোটের ওজন হয়)।

  • মেয়াদ: 5 বছর। পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।

  • অপসারণ: ইমপিচমেন্ট (Impeachment) – অনুচ্ছেদ 61. দুই কক্ষে 2/3 সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপসারণ।

3. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা (Powers of President)

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা তিন ভাগে: নির্বাহী, আইনসভা, বিচারিক।

ক্ষমতার ধরন

বিস্তারিত বর্ণনা

উদাহরণ

নির্বাহী ক্ষমতা

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, মন্ত্রী নিয়োগ, রাজ্যপাল নিয়োগ, অ্যাটর্নি জেনারেল, CAG, UPSC চেয়ারম্যান ইত্যাদি। সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। বিদেশী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ।

প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে নিয়োগ করেন।

আইনসভা ক্ষমতা

সংসদ অধিবেশন ডাকা, স্থগিত করা, ভঙ্গ করা। অর্ডিন্যান্স জারি (article 123)। বিলে সম্মতি দেওয়া, ভেটো (Absolute, Suspensive, Pocket)।

অর্ডিন্যান্স: যখন সংসদ অধিবেশনে না থাকে।

বিচারিক ক্ষমতা

ক্ষমা, মার্সি, পার্ডন, রিপ্রিভ, রেমিশন (article 72)। সুপ্রিম ও উচ্চ কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ (কলেজিয়াম সিস্টেম)।

মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ক্ষমা।

বিবেচনামূলক ক্ষমতা

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে (কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে), রাষ্ট্রপতি শাসন ঘোষণা (article 356), সংসদ ভঙ্গ (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া)।

1998 -এ কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সময় রাষ্ট্রপতির বিবেচনা।

4. রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও বাস্তব অবস্থান

  • রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে কাজ করেন (article 74)। পরামর্শ মানতে বাধ্য।

  • কিন্তু বিবেচনামূলক ক্ষমতায় (Discretionary Power) স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।

  • উদাহরণ:

    • 1989 -এ রাষ্ট্রপতি আর. ভেঙ্কটরমন বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

    • রাষ্ট্রপতি শাসনের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।

5. গুরুত্বপূর্ণ কেস ল

  • Ram Jawaya Kapoor vs State of Punjab (1955): রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে কাজ করেন।

  • Shamsher Singh vs State of Punjab (1974): রাষ্ট্রপতি/রাজ্যপালের বিবেচনামূলক ক্ষমতা সীমিত।

  • Samsher Singh Case পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নামমাত্র বলা হয়।

6. WBCS-এ আসা বা আসতে পারে এমন প্রশ্ন ও উত্তর (One-liner)

  1. রাষ্ট্রপতি কে নির্বাচিত করেন? → ইলেকটোরাল কলেজ (article 54)।

  2. রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত? → 5 বছর।

  3. রাষ্ট্রপতির অপসারণ কীভাবে? → ইমপিচমেন্ট ( article 61)।

  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদে? → 72

  5. অর্ডিন্যান্স জারি কোন অনুচ্ছেদে? → 123

  6. রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে কাজ করেন কোন অনুচ্ছেদে? → 74

  7. রাষ্ট্রপতির বিবেচনামূলক ক্ষমতা কখন? → প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে, রাষ্ট্রপতি শাসনে।

  8. রাষ্ট্রপতি কি ভেটো করতে পারেন? → হ্যাঁ, Suspensive, Absolute, Pocket ভেটো।

  9. রাষ্ট্রপতি কি সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার? → হ্যাঁ।

  10. রাষ্ট্রপতি কি রাজ্যপাল নিয়োগ করেন? → হ্যাঁ (article 155)।

ভারতের রাষ্ট্রপতির অপসারণের পদ্ধতি – বিস্তারিত আলোচনা

ভারতের রাষ্ট্রপতির অপসারণের পদ্ধতি সংবিধানের article 61 -এ বর্ণিত। এটাকে ইমপিচমেন্ট (Impeachment) বলা হয়, যা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। ভারতে এখনও কোনো রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচ করা হয়নি, কিন্তু পদ্ধতিটি খুব কঠিন যাতে অপব্যবহার না হয়। WBCS প্রিলিমসে প্রশ্ন আসে যেমন "রাষ্ট্রপতির অপসারণ কীভাবে?" বা "কোন article - এ ইমপিচমেন্ট?"। 

1. ভূমিকা: ইমপিচমেন্ট কেন ও কী?

ইমপিচমেন্ট হল রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। 

কারণ: রাষ্ট্রপতি যদি সংবিধান লঙ্ঘন করেন (Violation of Constitution)। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান থেকে নেওয়া। 

গুরুত্ব: রাষ্ট্রপতিকে দায়বদ্ধ রাখে, কিন্তু প্রক্রিয়াটি কঠিন যাতে অপব্যবহার না হয়। সীমাবদ্ধতা: শুধু সাংবিধানিক লঙ্ঘনের জন্য, অন্য অপরাধে নয়।

2. অপসারণের পদ্ধতি (Impeachment Procedure – article 61)

প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সংসদে হয়। কোনো কক্ষে (লোকসভা বা রাজ্যসভা) শুরু করা যায়।

  1. অভিযোগ উত্থাপন:

    • কমপক্ষে 14 দিনের নোটিশ দিয়ে অভিযোগ (Charge) উত্থাপন করা হয়।

    • অভিযোগে স্পষ্ট করে বলতে হবে কোন সাংবিধানিক লঙ্ঘন হয়েছে।

  2. প্রস্তাব পাস:

    • যে কক্ষে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, সেখানে মোট সদস্যের 1/4 সদস্য (Quarter of total members) সই করে প্রস্তাব দিতে হয়।

    • প্রস্তাব পাসের জন্য দুই কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে: মোট সদস্যের অর্ধেক + 1 এবং উপস্থিত ভোটদানকারীদের 2/3 সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

  3. তদন্ত:

    • অভিযোগ পাস হলে অন্য কক্ষে তদন্ত হয়। রাষ্ট্রপতিকে স্বপক্ষে বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

  4. অপসারণ:

    • দুই কক্ষেই 2/3 সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত হন।

    • রাষ্ট্রপতি অপসারিত হওয়ার পরও ভবিষ্যতে কোনো পদে দাঁড়াতে পারেন না (যদি অভিযোগে তা উল্লেখ থাকে)।

উদাহরণ: ভারতে কোনো রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচ করা হয়নি। কিন্তু আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দু'বার ইমপিচ করা হয় (কিন্তু অ্যাকুইটেড হন)।

3. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সীমাবদ্ধতা

  • কারণ: শুধু "সংবিধান লঙ্ঘন" (Violation of Constitution) – যেমন অসাংবিধানিক আদেশ দেওয়া। রাজনৈতিক কারণে নয়।

  • সীমাবদ্ধতা: প্রক্রিয়াটি খুব কঠিন, তাই অপব্যবহার কম। রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান, তাই লঙ্ঘনের সুযোগ কম।

  • Resignation (পদত্যাগ): রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে উপরাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন (article 56)।

  • পদ শূন্য হলে: উপরাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন (article 65)।

4. গুরুত্বপূর্ণ কেস ল

  • Ram Jawaya Kapoor vs State of Punjab (১৯৫৫): রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদের হাতে, তাই লঙ্ঘনের সুযোগ কম।

5. WBCS-এ আসা বা আসতে পারে এমন প্রশ্ন ও উত্তর (One-liner)

  1. রাষ্ট্রপতির অপসারণ কোন article অনুচ্ছেদে? → 61

  2. ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া কী? → দুই কক্ষে 2/3 সংখ্যাগরিষ্ঠতায়।

  3. অভিযোগ উত্থাপনের জন্য কত সদস্যের সই লাগে? → মোট সদস্যের 1/4 

  4. রাষ্ট্রপতির অপসারণের কারণ কী? → সংবিধান লঙ্ঘন।

  5. রাষ্ট্রপতি ইমপিচ হলে কী হয়? → পদচ্যুত এবং ভবিষ্যত পদে অযোগ্য।

  6. ভারতে কোনো রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচ করা হয়েছে? → না।

  7. ইমপিচমেন্ট শুরু কোন কক্ষে? → যেকোনো কক্ষে।

রাষ্ট্রপতির ইমপিচমেন্ট সংবিধানের সুরক্ষা ব্যবস্থা, কিন্তু ভারতে কখনো ব্যবহার হয়নি কারণ রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান। 


ভারতের উপরাষ্ট্রপতি (Vice-President of India) 

(অনুচ্ছেদ 63 - 71, Part V। WBCS প্রিলিমসে প্রতি বছর 1টা প্রশ্ন আসে – যেমন উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন, ক্ষমতা, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ভূমিকা।)

1. ভূমিকা: উপরাষ্ট্রপতি কে?

উপরাষ্ট্রপতি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপ্রধান (Second Highest Constitutional Office)। তিনি রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে বা পদ শূন্য হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

প্রধান কাজ: রাজ্যসভার চেয়ারম্যান (Ex-officio Chairman of Rajya Sabha)। উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির মতোই নামমাত্র প্রধান, কিন্তু রাজ্যসভায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

2. উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন (Election of Vice-President – article 66)

  • যোগ্যতা:

    • ভারতীয় নাগরিক।

    • ৩৫ বছর বয়স।

    • রাজ্যসভা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা।

    • লাভের পদে না থাকা (অফিস অফ প্রফিট)।

  • নির্বাচন প্রক্রিয়া: পরোক্ষ নির্বাচন (Indirect Election)।

    • ইলেকটোরাল কলেজ: লোকসভা + রাজ্যসভা সদস্যরা ভোট দেন (রাজ্য বিধানসভা নয়)। নির্বাচিত ও মনোনীত উভয়েই ভোট দিতে পারেন। 

    • একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট (Single Transferable Vote) দিয়ে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন।

  • মেয়াদ: 5 বছর। পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।

  • অপসারণ: ইমপিচমেন্ট (Impeachment) – লোকসভায় অভিযোগ উত্থাপন, রাজ্যসভায় 2/3  সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রমাণিত হলে অপসারণ (article 67)।

3. উপরাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভূমিকা (Powers and Functions)

উপরাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে।

  • রাজ্যসভার চেয়ারম্যান (Ex-officio Chairman – article 64):

    • রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করেন।

    • ভোটের সময় টাই ব্রেকার (Casting Vote) দেন।

    • রাজ্যসভার সভাপতি হিসেবে সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।

    • রাজ্যসভার কমিটি গঠন ও সভাপতিত্ব করেন।

  • রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব (Acting President – article 65):

    • রাষ্ট্রপতি মারা গেলে, পদত্যাগ করলে বা অসুস্থ হলে উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন (সর্বোচ্চ 6 মাস)।

    • এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা পান।

    • উদাহরণ: 1969 -এ জাকির হুসেনের মৃত্যুর পর ভি.ভি. গিরি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন।

  • অন্যান্য ক্ষমতা:

    • রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির কাজ করেন।

    • রাজ্যসভার সভাপতি হিসেবে সংসদের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ পড়েন না (রাষ্ট্রপতি নিজে পড়েন)।

4. গুরুত্বপূর্ণ কেস ল

  • Ram Jawaya Kapoor vs State of Punjab (১৯৫৫): রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা নামমাত্র।

  • Shamsher Singh vs State of Punjab (১৯৭৪): রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে কাজ করেন – উপরাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

5. WBCS-এ আসা বা আসতে পারে এমন প্রশ্ন ও উত্তর (One-liner)

  1. উপরাষ্ট্রপতি কোন পদে অধিষ্ঠিত? → রাজ্যসভার চেয়ারম্যান (Ex-officio)।

  2. উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন কে করে? → লোকসভা + রাজ্যসভা (article 66)।

  3. উপরাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত? → 5 বছর।

  4. রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কে করে? → উপরাষ্ট্রপতি (article 65)।

  5. উপরাষ্ট্রপতির অপসারণ কীভাবে? → ইমপিচমেন্ট ( article 67)।

  6. উপরাষ্ট্রপতির ভোট কখন? → রাজ্যসভায় টাই হলে (Casting Vote)।

  7. উপরাষ্ট্রপতি কি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হতে পারেন? → না।

  8. উপরাষ্ট্রপতি কি রাজ্যসভার সদস্য হতে হয়? → না (নির্বাচনের পর হন)।

  9. রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করেন? → উপরাষ্ট্রপতি (সর্বোচ্চ 6 মাস)।

  10. উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন কোন ধরনের? → পরোক্ষ (Indirect)।


রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা (Pardoning Power of the President)

ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা (Pardoning Power) সংবিধানের article 72-এ বর্ণিত। এটি রাষ্ট্রপতির কার্যনির্বাহী ক্ষমতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 ক্ষমা করার ধরন (Types of Pardoning Power – article 72(1))

রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ক্ষমা, সাজা হ্রাস বা পরিবর্তন করতে পারেন:

ধরন (ইংরেজি)

বাংলা অর্থ

অর্থ

Pardon

পূর্ণ ক্ষমা

অপরাধীকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া (দোষমুক্তি)

Reprieve

স্থগিতকরণ

সাজা কার্যকর করা সাময়িকভাবে স্থগিত করা (যেমন ফাঁসি স্থগিত)

Respite

সাজা হ্রাস

সাজার মেয়াদ বা ধরন কমানো (যেমন ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন)

Remission

সাজা মুকুব / হ্রাস

সাজার মেয়াদ বা পরিমাণ কমানো (যেমন 10 বছরের সাজা 5 বছর করা)

Commutation

সাজা পরিবর্তন

এক ধরনের সাজা অন্য ধরনে পরিবর্তন (যেমন মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন)

কোন ক্ষেত্রে ক্ষমা করতে পারেন? (Scope – article 72(1))

রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন যদি:

  • অপরাধটি কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে হয় (Union List বা Concurrent List-এর আইন)

  • সাজা সামরিক আদালত (Court Martial) দিয়ে দেওয়া হয়

  • মৃত্যুদণ্ড (Death Sentence) দেওয়া হয় (যেকোনো আদালত থেকে)

রাজ্যের ক্ষেত্রে: রাজ্যপালের ক্ষমা করার ক্ষমতা শুধু রাজ্য আইনের অধীনে (article 161)। রাষ্ট্রপতি রাজ্যের মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

ক্ষমা করার প্রক্রিয়া

  • ক্ষমা চাওয়ার আবেদন → গৃহ মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) → আইন মন্ত্রণালয় → প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর → রাষ্ট্রপতির কাছে।

  • রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার পরামর্শে ক্ষমা করেন (article 74)।

  • রাষ্ট্রপতি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না — মন্ত্রিসভার পরামর্শ বাধ্যতামূলক।

গুরুত্বপূর্ণ কেস ল (পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন)

  • Maru Ram vs Union of India (1980): রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) অধীনে আসে।

  • Kehar Singh vs Union of India (1989): ইন্দিরা গান্ধী হত্যা মামলায় ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যাত হয়।

  • Epuru Sudhakar vs Govt. of Andhra Pradesh (2006): ক্ষমা করার ক্ষমতা পক্ষপাতমূলক হলে বাতিল করা যায়।

  • Shatrughan Chauhan vs Union of India (2014): মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে দেরিতে ক্ষমা প্রত্যাখ্যান হলে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হতে পারে।

WBCS-এর জন্য One-liner রিভিশন

  1. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা কোন article? → 72

  2. রাজ্যপালের ক্ষমা করার ক্ষমতা কোন article? → 161

  3. কোন ধরনের সাজা রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেন? → মৃত্যুদণ্ড (যেকোনো আদালত থেকে)

  4. ক্ষমা করার সময় রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শ নেন? → মন্ত্রিসভার

  5. ক্ষমা করার ক্ষমতা কি Judicial Review-এর অধীনে? → হ্যাঁ

  6. কোন কেসে বলা হয়েছে ক্ষমা পক্ষপাতমূলক হলে বাতিল হতে পারে? → Epuru Sudhakar Case (2006)

রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা দয়া ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। 

পূর্ববর্তী চ্যাপ্টার: জরুরি অবস্থা (Emergency Provisions)

পরবর্তী চ্যাপ্টার: ভারতের সংসদ (Parliament of India): গঠন, ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ Articles



You may also like

কোন মন্তব্য নেই: